| বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম ডিএপি সার কারখানা ও ইস্টার্ন রিফাইনারিতে তীব্র সংকট | ২০২৬ নিউজ।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-04-2026 ইং
  • 1104902 বার পঠিত
চট্টগ্রাম ডিএপি সার কারখানা ও ইস্টার্ন রিফাইনারিতে তীব্র সংকট | ২০২৬ নিউজ।
ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রাম ডিএপি সার কারখানা


জ্বালানি ও গ্যাস সংকটে ধুঁকছে চট্টগ্রাম: বন্ধের ঝুঁকিতে ডিএপি সার কারখানা, পাইপলাইনের তেলই এখন ভরসা

শিল্প ও জ্বালানি প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও ইকোনমিক এনালিস্ট)

চট্টগ্রাম, ৭ এপ্রিল ২০২৬: বাংলাদেশে চলমান তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকট এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে কৃষি ও শিল্প খাতে। গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের বৃহৎ দুই সার কারখানা—সিইউএফএল (CUFL) ও কাফকো (KAFCO) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাঁচামাল অ্যামোনিয়ার অভাবে এখন বন্ধের মুখে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)। অন্যদিকে, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে (ERL) অপরিশোধিত তেলের মজুত ফুরিয়ে আসায় এসপিএম পাইপলাইনে জমে থাকা ৫ হাজার টন তেল দিয়ে উৎপাদন সচল রাখার এক আপৎকালীন চেষ্টা চলছে।

১. ১০ দিনের আলটিমেটাম: অ্যামোনিয়া সংকটে ডিএপিএফসিএল

আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত ডিএপি-১ ও ডিএপি-২ ইউনিটে দৈনিক ৮০০ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে।

  • মূল সমস্যা: ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ‘অ্যামোনিয়া’ সরবরাহ করে সিইউএফএল ও কাফকো। কারখানা দুটি বন্ধ থাকায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ শূন্যের কোঠায় নেমেছে।

  • ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য: ডিএপিএফসিএলের এমডি মোহাম্মদ মঈনুল হক জানিয়েছেন, কারখানায় গ্যাসের চাহিদা কম থাকলেও অ্যামোনিয়া ছাড়া উৎপাদন সম্ভব নয়। আগামী ১০ দিনের মধ্যে অ্যামোনিয়া না পেলে কারখানাটি পুরোপুরি শাটডাউনে চলে যাবে।

২. ইস্টার্ন রিফাইনারির ‘ডেড স্টোরেজ’ তেল উত্তোলন

দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে এসেছে। এই মজুত দিয়ে ১০ এপ্রিলের পর আর উৎপাদন সম্ভব নয়।

  • বিকল্প সমাধান: বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এসপিএম (SPM) প্রকল্পের পাইপলাইনে কয়েক মাস ধরে জমে থাকা ৫ হাজার টন অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) ইআরএল-এ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • সুফল: এই তেল পরিশোধন করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল, পেট্রল ও জেট ফুয়েল পাওয়া যাবে, যা বর্তমান জাতীয় জ্বালানি সংকটে অন্তত আরও দুই-তিন দিন উৎপাদন সচল রাখতে সাহায্য করবে।

৩. ২০২৬-এর বৈশ্বিক প্রভাব ও স্থানীয় ধাক্কা

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। একই সাথে ট্রাম্পের আলটিমেটাম ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা আমদানির উৎসগুলোকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। চট্টগ্রামের এই শিল্প সংকট মূলত বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতারই একটি স্থানীয় প্রতিফলন।


বিডিএস অ্যানালাইসিস: সার কারখানা বন্ধ হওয়া মানেই হলো সামনের মৌসুমে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ধস। ‘এক পা এক পা’ করে আমরা যে খাদ্য নিরাপত্তার দিকে এগোচ্ছিলাম, অ্যামোনিয়া ও জ্বালানি সংকট সেই যাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাইপলাইনের জমে থাকা তেল দিয়ে রিফাইনারি চালানো সাময়িক স্বস্তি দিলেও, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সরকারকে বিকল্প জ্বালানি উৎস ও ডলার সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে।


চট্টগ্রাম শিল্পাঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি (৭ এপ্রিল ২০২৬)

প্রতিষ্ঠানের নামবর্তমান অবস্থাসংকটের ধরণপ্রভাব
সিইউএফএল ও কাফকোবন্ধতীব্র গ্যাস সংকট।অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ।
ডিএপিএফসিএলঝুঁকির মুখেঅ্যামোনিয়া নেই (১০ দিনের সময়)।সার উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা।
ইস্টার্ন রিফাইনারিসীমিত উৎপাদনতেলের মজুত ২,০০০ টনের নিচে।জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency